শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

ফেসবুক: উপকার ও অপকার

অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কথা লিখা/বলার এমন একটি প্লাটফর্ম, যার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও জনতার একদিকে উপকার যেমন হচ্ছে, অন্যদিকে অপকার বা ক্ষতিও তেমন হচ্ছে! ক্ষুদে অভিজ্ঞতায় যা মনে হচ্ছে আমার, তা হলো ..

★★★উপকার★★★
উপকারের কথা যদি বলি, তবে বলতে হবে— ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা খুব কম ও দ্রুতসময়ে দেশ-বিদেশের খবর জানতে পারি, নতুন ও পুরাতন বন্ধুদের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারি, নিজেদের ভালো কিংবা মন্দ সব ধরণের অনুভূতি সবার সাথে শেয়ার করতে পারি, সমাজ/দেশ ও জনতার কল্যাণে নিজেদের বক্তব্য খোলামেলা প্রকাশ করতে পারি, এ বিষয়ে অন্যদের বক্তব্যও দেখতে পারি এবং নিজস্ব চিন্তা-চেতনার ব্যাপারে জনতার মূল্যায়ণ বুঝতে পারা সহ আরো কিছু উপকার যে আছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায়/সুযোগ নেই!

★★★অপকার★★★
অপকারের ফিহরিস্তটাও বেশ লম্বা ও কুদীর্ঘ ! বলা যায়, অপকারটাই তুলনামূলক বেশি ৷ তবুও, বিভিন্ন কারণে ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না! অপকারগুলোর মাত্র কয়েকটার কথা যদি বলি, তবে অবশ্যই বলবো— ফেসবুক আমাদের জীবনটাকে খুব খারাপ করে তুলছে! আমাদের মূল্যবান সময়গুলোকে গাফলতের সাগরে ডুবিয়ে/ভাসিয়ে দিচ্ছে, যারা মন্দ কী জিনিস একসময় বুঝতো না, তাদেরকে তা বুঝিয়ে/শিখিয়ে দিচ্ছে, বাস্তবের যিরোকে 'নেকা হিরো' বানিয়ে দিচ্ছে, কখনো বা বাস্তবের হিরোকে অন্যায়ভাবে যিরো বানিয়ে দিচ্ছে, 'অবুঝ' বালক/বালিকারা নিজেদের মতো করে দীনে ইসলামের মনচাহি ব্যাখ্যা/ওয়াজ নিয়ে হাজির হচ্ছে! যা ইচ্ছে ওরা লিখে যাচ্ছে— কখনো বড় এবং সম্মানীজনদেরকে কটাক্ষ/অপমান করে, কখনো বা নিজেদের কৃত বেহায়াপনার গৌরব (!) নিয়ে! এমন আজগুবি ও গাঁজাখুরি আরো অনেক কিছুই ওরা প্রসব করছে প্রতি মূহুর্তে! ঠেকায় ওদের কে?! ইসলামের নেড়ী (নাস্তিক, মালঊন) দুশমনগুলো ইসলাম, আল্লাহ ও ইসলামের নবীকে (সা:) নিয়ে কটাক্ষ করছে এবং 'যথেচ্ছা' বলে যাচ্ছে, হায় !

"বিড়ালের গলে ঘন্টা বাঁধবে কে ! "
সবই সম্ভব হয়েছে মার্ক জুকারবার্গের
বক্ষমান ফেসবুক হযরতের কল্যাণে !

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৭

কী চমৎকার শিক্ষা !

বাদশাহ যুলকারনাঈনকে তাঁর মৃত্যুর সময়
কেউ জিজ্ঞেস করলো, 'জীবনের এই অল্প
সময়ে গোটা দুনিয়াকে কীভাবে আপনি
করায়ত্ত্ব করলেন?' বাদশাহ তাকে বললেন
মাত্র দু'টি কাজের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে !

(১) আমার কোনো বন্ধুকে কখনো শত্রু
হওয়ার সুযোগ দেইনি !
(২) যারা শত্রু ছিলো, তাদেরকে আমি বন্ধু
হতে বাধ্য করেছি— উত্তম আখলাক তথা
সুন্দর ও মাধুর্যপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে !

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

সমালোচনা করতেও যোগ্যতা চাই!

বাদশাহ হারুনুর রশীদের ইন্তেকালের
পর তাঁর পুত্র বাদশাহ মামুনুর রশীদ
স্বীয় পিতার সিংহাসনে সমাসীন হন ৷

তিনি একবার ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে
কোথাও যাচ্ছিলেন ৷ রাস্তার পাশেই
জুতা সেলাইরত এক মুচি গমগমিয়ে
বলে উঠলো— এই লোকটা সেদিনই
আমার নজর (!) থেকে পড়ে গেছে ,
যেদিন সে তার ভাইকে ঠকিয়ে নিজে
ক্ষমতার চেয়ারে বসেছে !

বাদশাহ মামুনুর রশীদ তখন উপস্থিত
জনতার উদ্দেশ্যে ' বিদ্রুপাত্মক হাসি '
হেসে বললেন—

" কে আছো ভাই, আমাকে একটু ধরে
এই→মুচির নজরে (!) উঠিয়ে দাও .. ! "

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

নেককারদেরকে ভালোবাসি!

" নেককারদেরকে আমি ভালোবাসি,
যদিও নই (হতে পারিনি) তাঁদের মত!
আশা—আল্লাহ আমাকেও নেককার
হওয়ার তাউফীক দান করবেন .. ৷ "

احب الصالحين و لست منـهم؛
لعل اللــــه يرزقنـــــــي صلاحـــــــــــا

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) বিনয়

জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর ইবনুল
খাত্তাবের (রাযি.) উদ্দেশ্যে বললো,
' আপনার মতো কাউকে দেখিনি ! '
উমর (রাযি.) বললেন—
তুমি আবূ বকরকে (রাযি.) দেখেছো?
লোকটি বললো— না, দেখিনি !
উমর (রাযি.) তখন বললেন—
খোদার কসম, যদি বলতে তুমি
তাঁকে দেখেছো, তাহলে অবশ্যই
আমি তোমাকে প্রহার করতাম !

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

অবাক হয়ে যাই !


বর্তমান সময়ে ছেলে-মেয়েদের প্রেম-পিরিতি আর নষ্টামি করতে ১৪ বা ১৫ বছর বয়সই যথেষ্ট ! অথচ আপনি দেখবেন— ঠিক এই বয়সের কোনো মেয়েকে যদি বিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আধুনিক ভাষায় এর নাম হয় ' বাল্য বিবাহ ' ! আর এজন্য করা হয় কঠিন আইন !!

" এ জাতির বিবেক মারা গেছে ! "

মাননীয় সরকার মহোদয়,
তথাকথিত বাল্য বিবাহ বন্ধের আগে পারলে ১৩ বছর বয়স থেকে নিয়ে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি মেয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও ইজ্জত সুরক্ষার পুরো দায়িত্ব নিজ স্কন্ধে নিন আপনি !

সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৬

স্নেহ ও শ্রদ্ধা

'স্নেহ ও শ্রদ্ধা' শব্দদ্বয় পরস্পর
অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রাখে, জানি।
সহজ করে বললে-যেখানে স্নেহ
থাকে,সেখানেই শ্রদ্ধার বসবাস।
উল্টো করে বললেও বলা যায়।
অর্থাৎ, ছোটকে যদি আমি স্নেহ
করতে পারি, তবে নিশ্চিত তার
কাছ থেকে আমি শ্রদ্ধা পাওয়ার
আশাটাও করতে পারি .. অথবা,
বড়কে যদি আমি শ্রদ্ধা করতে
শিখি, তবে নিশ্চিত তাঁর কাছ
থেকে আমি স্নেহ/ভালোবাসার
আশাও করতে পারি। কিন্তু; না !

আজকাল অনেকেই এ সম্পর্কের
যুগলটিকে ভাগ করে কোনো এক
দিক তথা 'শুধু স্নেহ' কিংবা ' শুধু
শ্রদ্ধাকে' অর্জন/লাভ করতে চাই!

কী আজব এক খেলা রে ভাই .. !
বড় তাঁর ছোটকে স্নেহ না করেও
শ্রদ্ধা প্রাপ্তির 'মুড' নিয়ে থাকেন,
আবার, ছোট তার বড়কে শ্রদ্ধা
না করেও স্নেহ প্রাপ্তির প্রহর গুনে!!

আসুন, একক প্রাপ্তির অভিলাষ
ছেড়ে দিয়ে ' স্নেহ করে সম্মান '
বা 'শ্রদ্ধা করে স্নেহ' অর্জন করি।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৫

সিক্ত হলাম মায়ের ভালোবাসায় !

ক'দিন আগেই গিয়েছিলাম মায়ের কাছে ৷
দীর্ঘ এক মাস পরে দেখা এবং কথা হলো ৷
বাড়ীতে গিয়েই আমার নজরে পড়লো
সাঁজানো-গোছানো সুন্দর পরিবেশ এবং নতুন অনেক আয়োজন ৷ রকমারি পিঠা আর হরেক রকমের খাবার দেখে কিছুতেই যেনো বিলম্ব সইছিলো না ! সবই যে আমার মায়ের হাতের কারিশমা ! দারুণ তৃপ্তি আর ভীষণ মজায় উদর পূর্ণ করে নিলাম মূহুর্তেই ! খাওয়ারপর্ব সেরে হাত মুছবো বলে যখনই তোয়ালে বা গামছা তালাশ করতেছিলাম, হঠাৎ পাশ থেকে দরদমাখা কণ্ঠে আওয়াজ এলো- ' বাবা, তুই আমার কাঁপড়ের আঁচলে হাত মুছবি বলে আজ কাঁপড়টা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়েছি ! ' কথাটি মূহুর্তের ভেতরেই আমার হৃদয়ে এবং হৃদয় থেকে সারা দেহে মাতৃস্নেহের অমূল্য পরশ বুলিয়ে দিলো ৷ আর সিক্ত হলাম আমি মায়ের ভালোবাসায় ! হে খোদা, মাকে আমার দীর্ঘজীবি করো ! তাঁর স্নেহছাঁয়া আমার উপরে তুমি আরো অনেক কাল দীর্ঘ করে দাও ৷ আমীন ৷

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

ওগো রব্বে কারীম, সুন্দর একটি দেশ চাই!

আমার জানা মতে- ২০০১ সালের
আদমশুমারী অনুযায়ী বর্তমান এই
দুনিয়াতে প্রায় ছয়শো কোটি মানুষ
বসবাস করছে ৷ যার এক চতুর্থাংশ
তথা দেড়শো কোটিই 'মুসলমান' !
অতীত ইতিহাসে আর কখনো এতো
মুসলমান একসাথে এই দুনিয়ায় বাস
করেনি ৷ .. এ এক ঐতিহাসিক সত্য ৷

বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক
ধারণা যাঁরা রাখেন, সাথে সাথে
মানব সূচনা থেকে নিয়ে অদ্যবধির
নির্ভূল ইতিহাস যাঁদের মাথায় আছে,
তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে -
ইসলাম ও মুসলমানদের বর্তমানে যে
বিপর্যয় নেমে এসেছে, এমন বিপর্যয়
অতীতের আর কোন কালেই ছিলো
না ৷বর্তমান চিত্রই তার জ্বলন্ত প্রমান!
সর্বাধিক মুসলমানের এই পৃথিবীতে
ইসলাম ও মুসলমানদের সবচে' বেশি
'খোশ-হালের' পরিবর্তে সবচে' বেশি
বিপর্যয় বা এমন করুণ দূরাবস্থা আর
দূর্দশা কেন নেমে এলো, সেটাই বেশ
চিন্তার বিষয় ! ওগো রব্বে কারীম,
ক্ষমা করো মোদের, আমরা যে আজ
অনেক খারাপ হয়ে গেছি! আমীন ৷৷

দেশে দেশে চলছে মুসলিম নিদনের
মহোৎসব ! নানা দেশে বিভিন্ন বেশে
এগিয়ে চলছে তাগুত ! ওরা যেনো
বলছে- ওরে মুসলিম, তোদের কোনো
দেশ নেই; তোদের দেশ থাকতে নেই!

আহা, আমি মুসলিম আজো ঘুমিয়ে!

ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ
দেশে ও বিদেশে চলছে ' ভয়ংকর '
সব ষঁড়যন্ত্র ! আল্লাহ, রক্ষা করো !
কিছুকাল আগেও ইসলাম, মুসলমান
বিশেষতঃ আলেম সমাজের প্রতি যে
জনতা ছিলো ভীতশ্রদ্ধ, সে জনতাই
আজ মোড় নিয়েছে- উল্টো দিকে !
অপরাজনীতি, দুঃশাসণ, নাস্তিক্যবাদ
ও বহুরুপী তাগুতের ভয়াল থাবায়
আজ মনে হচ্ছে— সত্যিই, আমাদের
কোনো দেশ নেই ! এমন কেনো হলো ?!

ওগো রব্বে কারীম,
দাও, সুন্দর একটি দেশ চাই !

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

তুই, তুমি এবং কিছু কথা

আমরা বাংলাদেশী ৷ আমরা বাংলাভাষী ৷
ব্যক্তি সম্বোধনে বাংলায় আমরা তুই, তুমি
এবং আপনি শব্দত্রয়ের ব্যবহার করে থাকি৷
স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সবগুলোর ব্যবহারই
ঠিক আছে ৷ তবে, সমস্যা আমাদের অন্যত্র ৷
স্থান চিনি তো আমরা কাল চিনি না, আবার
কাল চিনি তো পাত্র চিনি না ! যারফলে দেখা
যায়, অনিচ্ছা সত্বেও আমরা অনেককে কষ্ট
দিয়ে ফেলি ৷ অনেকে তো আবার ইচ্ছাকৃতই
এমন করে থাকে ! এটা আদৌ সমীচীন নয় ৷
স্থান, কাল এবং পাত্র চিনে কথা বলা উচিত৷

ভরা মজলিশে কিংবা ব্যক্তির সম্মানদাতা সে
পাবলিক প্লেসে আমি তার সাথে সম্বোধনীয়
শব্দ তুই বা তুমির প্রয়োগ করতে পারি না !
হোকনা সে আমার গাঁয়ের পিচ্চি ছেলে কিংবা
পড়ার-গল্পের সাথী ! প্রয়োজনে সম্বোধনীয় শব্দ
এড়িয়ে যাবো, তবুও তুই-তুমি বলবো না ৷ এ
হচ্ছে স্থান চিনে কথা বলা ৷ বুঝা উচিত ... ৷

ছোট্ট বেলায় হয়তো কোনো টুর্ণামেন্ট খেলা
হয়েছিলো তার সাথে, কিংবা গ্রামের অসহায়
অবহেলিত সে ছেলে আজ বড় হয়েছে এবং
বেশ সম্মানের জায়গাও এখন অর্জন করে
নিয়েছে, অথচ আমি পড়ে আছি সেই পূর্বের
অবস্থানেই! তাহলে আমি তাকে প্রকাশ্যে তুই
তুমি বলতে পারি না; বলা উচিত নয় ৷ এটার
নাম হচ্ছে কাল চিনে ব্যক্তির সাথে কথা বলা৷

বড়জন ও গুণীজনদের সাথেও আমি তুই ও
তুমি সম্বোধনে কথা বলতে পারি না ৷ এটার
নাম শিষ্টাচার এবং পাত্র চিনে কথা বলা ... ৷
কাজেই- স্থান, কাল ও পাত্র চিনে কথা বলা
আমাদের একান্ত কর্তব্য ৷ না হয়, দেখা যাবে
মনের অজান্তেই আমরা কাউকে কষ্ট দিচ্ছি ৷
তাছাড়া, সাধারণ জনতাও আপনাকে ভালো
চোখে দেখবে না ৷ ক্ষতি আপনারই বেশি ৷
খুব প্রয়োজনে সম্বোধন এড়িয়ে কথা বলুন ৷

অনেকে আবার স্থান, কাল ও পাত্র চিনলেও
ইচ্ছাকৃতভাবেই পাবলিক প্লেসে তুই ও তুমি
সম্বোধনের প্রয়োগ করে থাকে— 'শুধুমাত্র'
নিজেদের একটু বড় করে ফুটিয়ে তুলতে .. !
অথচ বাস্তবে তারা হয়ে যায় সর্বজন ধিকৃত !
তবে হ্যাঁ, উভয়ের পজিশন সমহালে থাকলে,
উন্মুক্ত জনতার সামনে না হলে তুই, তুমি বা
আপনি .. সম্পর্কভেদে সব বলা যেতে পারে৷