সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৬

স্নেহ ও শ্রদ্ধা

'স্নেহ ও শ্রদ্ধা' শব্দদ্বয় পরস্পর
অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রাখে, জানি।
সহজ করে বললে-যেখানে স্নেহ
থাকে,সেখানেই শ্রদ্ধার বসবাস।
উল্টো করে বললেও বলা যায়।
অর্থাৎ, ছোটকে যদি আমি স্নেহ
করতে পারি, তবে নিশ্চিত তার
কাছ থেকে আমি শ্রদ্ধা পাওয়ার
আশাটাও করতে পারি .. অথবা,
বড়কে যদি আমি শ্রদ্ধা করতে
শিখি, তবে নিশ্চিত তাঁর কাছ
থেকে আমি স্নেহ/ভালোবাসার
আশাও করতে পারি। কিন্তু; না !

আজকাল অনেকেই এ সম্পর্কের
যুগলটিকে ভাগ করে কোনো এক
দিক তথা 'শুধু স্নেহ' কিংবা ' শুধু
শ্রদ্ধাকে' অর্জন/লাভ করতে চাই!

কী আজব এক খেলা রে ভাই .. !
বড় তাঁর ছোটকে স্নেহ না করেও
শ্রদ্ধা প্রাপ্তির 'মুড' নিয়ে থাকেন,
আবার, ছোট তার বড়কে শ্রদ্ধা
না করেও স্নেহ প্রাপ্তির প্রহর গুনে!!

আসুন, একক প্রাপ্তির অভিলাষ
ছেড়ে দিয়ে ' স্নেহ করে সম্মান '
বা 'শ্রদ্ধা করে স্নেহ' অর্জন করি।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৫

সিক্ত হলাম মায়ের ভালোবাসায় !

ক'দিন আগেই গিয়েছিলাম মায়ের কাছে ৷
দীর্ঘ এক মাস পরে দেখা এবং কথা হলো ৷
বাড়ীতে গিয়েই আমার নজরে পড়লো
সাঁজানো-গোছানো সুন্দর পরিবেশ এবং নতুন অনেক আয়োজন ৷ রকমারি পিঠা আর হরেক রকমের খাবার দেখে কিছুতেই যেনো বিলম্ব সইছিলো না ! সবই যে আমার মায়ের হাতের কারিশমা ! দারুণ তৃপ্তি আর ভীষণ মজায় উদর পূর্ণ করে নিলাম মূহুর্তেই ! খাওয়ারপর্ব সেরে হাত মুছবো বলে যখনই তোয়ালে বা গামছা তালাশ করতেছিলাম, হঠাৎ পাশ থেকে দরদমাখা কণ্ঠে আওয়াজ এলো- ' বাবা, তুই আমার কাঁপড়ের আঁচলে হাত মুছবি বলে আজ কাঁপড়টা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়েছি ! ' কথাটি মূহুর্তের ভেতরেই আমার হৃদয়ে এবং হৃদয় থেকে সারা দেহে মাতৃস্নেহের অমূল্য পরশ বুলিয়ে দিলো ৷ আর সিক্ত হলাম আমি মায়ের ভালোবাসায় ! হে খোদা, মাকে আমার দীর্ঘজীবি করো ! তাঁর স্নেহছাঁয়া আমার উপরে তুমি আরো অনেক কাল দীর্ঘ করে দাও ৷ আমীন ৷

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

ওগো রব্বে কারীম, সুন্দর একটি দেশ চাই!

আমার জানা মতে- ২০০১ সালের
আদমশুমারী অনুযায়ী বর্তমান এই
দুনিয়াতে প্রায় ছয়শো কোটি মানুষ
বসবাস করছে ৷ যার এক চতুর্থাংশ
তথা দেড়শো কোটিই 'মুসলমান' !
অতীত ইতিহাসে আর কখনো এতো
মুসলমান একসাথে এই দুনিয়ায় বাস
করেনি ৷ .. এ এক ঐতিহাসিক সত্য ৷

বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক
ধারণা যাঁরা রাখেন, সাথে সাথে
মানব সূচনা থেকে নিয়ে অদ্যবধির
নির্ভূল ইতিহাস যাঁদের মাথায় আছে,
তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে -
ইসলাম ও মুসলমানদের বর্তমানে যে
বিপর্যয় নেমে এসেছে, এমন বিপর্যয়
অতীতের আর কোন কালেই ছিলো
না ৷বর্তমান চিত্রই তার জ্বলন্ত প্রমান!
সর্বাধিক মুসলমানের এই পৃথিবীতে
ইসলাম ও মুসলমানদের সবচে' বেশি
'খোশ-হালের' পরিবর্তে সবচে' বেশি
বিপর্যয় বা এমন করুণ দূরাবস্থা আর
দূর্দশা কেন নেমে এলো, সেটাই বেশ
চিন্তার বিষয় ! ওগো রব্বে কারীম,
ক্ষমা করো মোদের, আমরা যে আজ
অনেক খারাপ হয়ে গেছি! আমীন ৷৷

দেশে দেশে চলছে মুসলিম নিদনের
মহোৎসব ! নানা দেশে বিভিন্ন বেশে
এগিয়ে চলছে তাগুত ! ওরা যেনো
বলছে- ওরে মুসলিম, তোদের কোনো
দেশ নেই; তোদের দেশ থাকতে নেই!

আহা, আমি মুসলিম আজো ঘুমিয়ে!

ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ
দেশে ও বিদেশে চলছে ' ভয়ংকর '
সব ষঁড়যন্ত্র ! আল্লাহ, রক্ষা করো !
কিছুকাল আগেও ইসলাম, মুসলমান
বিশেষতঃ আলেম সমাজের প্রতি যে
জনতা ছিলো ভীতশ্রদ্ধ, সে জনতাই
আজ মোড় নিয়েছে- উল্টো দিকে !
অপরাজনীতি, দুঃশাসণ, নাস্তিক্যবাদ
ও বহুরুপী তাগুতের ভয়াল থাবায়
আজ মনে হচ্ছে— সত্যিই, আমাদের
কোনো দেশ নেই ! এমন কেনো হলো ?!

ওগো রব্বে কারীম,
দাও, সুন্দর একটি দেশ চাই !

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

তুই, তুমি এবং কিছু কথা

আমরা বাংলাদেশী ৷ আমরা বাংলাভাষী ৷
ব্যক্তি সম্বোধনে বাংলায় আমরা তুই, তুমি
এবং আপনি শব্দত্রয়ের ব্যবহার করে থাকি৷
স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সবগুলোর ব্যবহারই
ঠিক আছে ৷ তবে, সমস্যা আমাদের অন্যত্র ৷
স্থান চিনি তো আমরা কাল চিনি না, আবার
কাল চিনি তো পাত্র চিনি না ! যারফলে দেখা
যায়, অনিচ্ছা সত্বেও আমরা অনেককে কষ্ট
দিয়ে ফেলি ৷ অনেকে তো আবার ইচ্ছাকৃতই
এমন করে থাকে ! এটা আদৌ সমীচীন নয় ৷
স্থান, কাল এবং পাত্র চিনে কথা বলা উচিত৷

ভরা মজলিশে কিংবা ব্যক্তির সম্মানদাতা সে
পাবলিক প্লেসে আমি তার সাথে সম্বোধনীয়
শব্দ তুই বা তুমির প্রয়োগ করতে পারি না !
হোকনা সে আমার গাঁয়ের পিচ্চি ছেলে কিংবা
পড়ার-গল্পের সাথী ! প্রয়োজনে সম্বোধনীয় শব্দ
এড়িয়ে যাবো, তবুও তুই-তুমি বলবো না ৷ এ
হচ্ছে স্থান চিনে কথা বলা ৷ বুঝা উচিত ... ৷

ছোট্ট বেলায় হয়তো কোনো টুর্ণামেন্ট খেলা
হয়েছিলো তার সাথে, কিংবা গ্রামের অসহায়
অবহেলিত সে ছেলে আজ বড় হয়েছে এবং
বেশ সম্মানের জায়গাও এখন অর্জন করে
নিয়েছে, অথচ আমি পড়ে আছি সেই পূর্বের
অবস্থানেই! তাহলে আমি তাকে প্রকাশ্যে তুই
তুমি বলতে পারি না; বলা উচিত নয় ৷ এটার
নাম হচ্ছে কাল চিনে ব্যক্তির সাথে কথা বলা৷

বড়জন ও গুণীজনদের সাথেও আমি তুই ও
তুমি সম্বোধনে কথা বলতে পারি না ৷ এটার
নাম শিষ্টাচার এবং পাত্র চিনে কথা বলা ... ৷
কাজেই- স্থান, কাল ও পাত্র চিনে কথা বলা
আমাদের একান্ত কর্তব্য ৷ না হয়, দেখা যাবে
মনের অজান্তেই আমরা কাউকে কষ্ট দিচ্ছি ৷
তাছাড়া, সাধারণ জনতাও আপনাকে ভালো
চোখে দেখবে না ৷ ক্ষতি আপনারই বেশি ৷
খুব প্রয়োজনে সম্বোধন এড়িয়ে কথা বলুন ৷

অনেকে আবার স্থান, কাল ও পাত্র চিনলেও
ইচ্ছাকৃতভাবেই পাবলিক প্লেসে তুই ও তুমি
সম্বোধনের প্রয়োগ করে থাকে— 'শুধুমাত্র'
নিজেদের একটু বড় করে ফুটিয়ে তুলতে .. !
অথচ বাস্তবে তারা হয়ে যায় সর্বজন ধিকৃত !
তবে হ্যাঁ, উভয়ের পজিশন সমহালে থাকলে,
উন্মুক্ত জনতার সামনে না হলে তুই, তুমি বা
আপনি .. সম্পর্কভেদে সব বলা যেতে পারে৷

রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

হায়, এত শোক রাখি কোথায় !

কাঁদছে বার্মা , নির্বাক মানবতা !
অনলাইনে উঁকি দিলেই নজরে
পড়ছে বার্মার মুসলিম নিদনের
গা শিউরে উঠা ভয়াল সব চিত্র !
হাসছে তাগুত, ঘুমুচ্ছে মুসলিম
বিশ্বের অকর্ম-অথর্ব শাসকদল !

'শুধু মুসলিম হওয়ার অপরাধে'
বার্মিস মুসলিমদের উপর বৌদ্ধ
সন্ত্রাসীদের চলছে - 'বর্বরচিত'
গণহত্যা , গণধর্ষণ ও গণলুণ্ঠনে
-র মহোৎসব ! কেউ বলার নেই!
এদিকে যারপর নেই অবাক হই—
'তথাকথিত' মানবতাবাদের নেঁড়ি
কুত্তাগুলো ' তাগুত নির্দেশিত '
' বোবা শয়তান ' সেঁজে মুসলিমমুক্ত
বার্মা কিংবা ইসলামমুক্ত পৃথিবী দেখার
হীণ এবং বৃথা
স্বপ্ন দেখছে ..।  (লাআনাহুমুল্লাহ !)

হায় দুঃখ, পঙ্গু না হয়েও আমি
যে আজ পঙ্গু হয়ে বসে আছি !
দারাজ বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া
সত্ত্বেও আমি যে আজ নির্বাক !
সচল-সবল ও সুস্থ হয়েও আমি
যে আজ অকর্ম কিংবা অথর্ব !
আমার মুসলিম ভাইদের ওরা
জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা করছে !
কেউ মরছে ক্রসফায়ারে কেউ
বা ঝুলছে নির্মম ফাঁসির কাষ্ঠে!
সন্ত্রাসী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে
ইজ্জত-সম্ভ্রম আর কলিজার
টুকরো নিষ্পাপ সন্তান হারিয়ে
অসহায় মুসলিম নারীদের ঐ
আর্তচিৎকারে আজ ভারী হয়ে
উঠেছে বার্মার আকাশ-বাতাশ !
ওগো আল্লাহ,
কেউই শুনছে না ওদের কান্না !
কিছুই করতে পারছি না আমি
ও আমরা ! ... এত শোক রাখি
কোথায় ! কিছু করো আল্লাহ ;
ওদের তুমি উচিত শিক্ষা দাও !

[ফাইল ফটোগুলো আপলোড
দিতে চেয়েছিলাম ; দিলাম না।
লোড দিতে পারলাম না আমি।]

শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

দিল থেকে বের হয়- আলহামদুলিল্লাহ!

উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা
হাসান জামীল সাহেব হুযূর
দরসে আমাদের মাঝে মাঝে
শিক্ষণীয় অনেক ' ছোট গল্প '
ও চমৎকার সব উক্তিমালা
শোনাতেন। হৃদয় ছুঁয়ে যেত,
সাথে সাথে লিখে রাখতাম।

সম্ভবতঃ মেশকাতের বছরের
ঘটনা লিখছি ৷ দরসে সেদিন
তিনি কিছুটা তৃষ্ণা অনুভব
করলেন। মেলামাইনের মগে
পানি পেশ করা হলে- তিনি
তা পান করতে করতে বেশ
শান্ত মেজাজ ও নরম কন্ঠে
বললেনঃ- ' (মেলামাইন নয়,)
কাঁচের স্বচ্ছ গ্লাসে পানি পান
করার মজাই আলাদা, তখন
দিল থেকে তোমার বের হয়
আলহাম্দুলিল্লাহ !  কথাটি
সেদিনই উপলব্ধি করেছিলাম।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পেড়িয়ে আজ
যখন কাঁচের স্বচ্ছ সে গ্লাসে
পানি পান করছিলাম , মনের
অজান্তেই হৃদয় থেকে হঠাৎ
বেরিয়ে এলো কৃতজ্ঞতার
কালিমা- আলহাম্দুলিল্লাহ !
আল্লাহ হুযূরকে ভালো রাখুন।

এখন কেউ কাউকে আর কেয়ার করে না!

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই
ভালোবাসার কাঙাল . .
আমি, আপনি এবং সবাই।
ছোটদের প্রতি ভালোবাসার
নাম স্নেহ, মমতা ও আদর।
বড়দের প্রতি ভালোবাসার
নাম শ্রদ্ধা, সম্মান ও আদব।
ধরণ ভিন্ন হলেও কথা এক।
বড়রা চান তাঁদের কর্ম ও
কীর্তির 'যথাযোগ্য' স্বীকৃতি !
ছোটরা চায় তাদের অর্জনের
'বাহবাহ' কিংবা মাশাআল্লাহ !
সবাই কিন্তু এই ধরণের কিছু
একটা প্রত্যাশা করে থাকেন।
কিন্তু, উভয় পক্ষই কেন যেন
এ ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার
পরিচয় দিয়ে থাকে/থাকেন।
আজ স্নেহ, সম্মান ও অন্যের
অর্জনে খুশি হওয়ার ন্যয় সে
মহামূল্যবান গুনসমূহ প্রায়ই
বিলুপ্তির পথে। আজ কেউই
কাউকে আর কেয়ার করে না!
আপনি দেখবেন, পরিচিতরাও
কী ' দূর্লভ ভংগিমায় ' ক্রমশঃ
'অপরিচিত' হয়ে উঠছে !
আপনজনেরাও কেমন অসাধু
স্টাইলে আপনাকে 'এভোয়েট'
করে চলছে ! রেসপেক্ট এবং
অপরকে গুরুত্ত্ব দেয়া বলতে
কিছুই যেন আর থাকছে না !

কী আর বলবো দুঃখের কথা,
আমাদের খাছ পাবলিকদেরই
যখন এই অবস্থা, তখন আম
পাবলিক থেকে হতাশা বৈ কী !

বন্ধুরা কেউ মনে রাখে নি

২০০১ সালের শেষ দিকের
কথা। এ বছরই ঐতিহ্যবাহী
নাগরপুর বাজার হাফিজিয়া
মাদরাসায় আমাকে মক্তব
বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল।
বর্তমানে চলছে ২০১৫ খ্রীঃ।
আজ পড়ছি দারুল উলূমে ।
২০১৫-ই আমার জীবনের
' সম্ভব্য ' সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষ ।
১৪ টি বছর পেড়িয়ে গেছে ।

১৪ বছরের শিক্ষা জীবনের
একেবারেই শেষ প্রান্তে এসে
কিছু হিসেব মিলাতে গিয়ে
যে ভীষণ জটিলতায় ভুগছি,
আল্লাহ যেন সহজ করে দিন।

যিন্দেগীর বাস্তবতা বড় নির্মম !
এ এক মহাসত্য, আগে বুঝি নি।
চৌদ্দ বছরের শিক্ষা জীবনের
প্রতিটি ক্লাসেই আমার ছিলো
২/৪ জন করে অসম্ভব কাছের
কিছু বন্ধু ! যাদের সাথে আমার
পড়া-শুনা, খাওয়া-দাওয়া ও
খোশগল্প কিংবা আনন্দ ভ্রমণ
এই পরিমাণেই হয়ে থাকতো যে,
মনে হতো , জীবনের কোনো
একটি ক্ষণেও আমরা পরস্পরের
কাছে গুরুত্ত্বহীণ  হয়ে  থাকতে
পারবো না। ফলে, প্রফুল্লচিত্ত্বেই
পরস্পরে ওয়াদা করে নিতাম
দোস্ত, আমাকে দাওয়াত না করে
তুই কিন্তু কিছুতেই বিয়ে করতে
পারবি না !  হা হা হা . .  মামুর
বাড়ীর আবদার ছুঁড়ে দিতাম!

হিসেব করে দেখেছি, এ পর্যন্ত
আমার খুবই কাছের ১৩ জন
বন্ধু শাদী মোবারক করেছেন !
দাওয়াত তো বহু দূরের কথা,
একটু জানানোর প্রয়োজনাবোধও
করেছেন কি না, আল্লাহ মা'লূম !

' সবারই নাকি হঠাৎ বিয়ে হয় ! '

দারুল উলূম দেওবন্দে পড়ার
উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছি, পুরো
দুই বছর অতীত হয়ে গেলো।
খুব বেশি মনে পড়ে ঐ সকল
কাছের বন্ধুদের, যাদের সাথে
দরসের ফাঁকে - ফাঁকে হালকা
রশিকতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে
খোশগল্পে মেতে উঠতাম  . .
হৃদয়ের টানে তাই মাঝে মাঝেই
ফোন - কল করে তাদের সাথে
খুব কুশল বিনিময় করে থাকি।

কিন্তু, শেষবেলায় আজ যখন
আমি হিসেব কষতে বসলাম..
আহা,
বিদেশের এই দু' বছরে কেউ তো
'উল্লেখযোগ্য' খবর নেয় নি !
'উল্লেখযোগ্য' কথাটা বললাম।

কল পাওয়ার বিশাল আশা
আমি নাই বা করলাম, তবে
মিসকল পাওয়ার ক্ষুদ্রলোভ
কিংবা ছোট্টদাবীও কি আমি
করতে পারি না, বল বন্ধু ?!
আমি তো সেই আগের মতো
করেই তোদের সবাইকে খুব
এবং খুব 'বেশি '  ফিল করি !

পুরো দু'টি বছর অতীত হয়ে
গেছে, কেউই কি পারতিস না
আগে বেড়ে সেইইই পুরোনো
ভংগিতে জিজ্ঞেস করতেঃ-
'ইব্রাহীম, দোস্ত কেমন আছিস?'
দূর এ দেশ থেকে আমি তো
কেবল তোদের ভালোবাসাপূর্ণ
ছোট্ট একটা ম্যাসেজ কিংবা
একটা মিসকলই আশা করি !

দরস শেষে অবসর সময়ে
প্রত্যহ আমি ইনবক্স এবং
মিসকল চেক করি। কিন্তু ..
হৃদয়ের মধ্যমণি মা ছাড়া আর
কারো মিসকলও স্মরণকালে
আমি খুঁজে পাই নি, বন্ধু .. !

শুধু এ জন্যই আমার কাছে
খুব বেশি মনে হচ্ছেঃ- আহা,
' বন্ধুরা কেউ মনে রাখে নি ! '

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

তিনি অনন্য, অসাধারণ!

শায়খ ও উস্তাদে মুহতারাম
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম
সাহেব (হাফিঃ) হতে বুখারী
শরীফের দরস গ্রহন করেছি
২০১২-১৩ ইং শিক্ষাবর্ষে ।।
হুযূরকে কাছ থেকে অদ্যবধি
যারাই দেখেছেন, এক বাক্যে
সবাই বলতে 'বাধ্য' হয়েছেন
যে- তিনি অনন্য, অসাধারণ!

ক্বওমী সিলেবাসের জামাতে
নাহবেমীর থেকে নিয়ে পুরো
সাতটি বছর তাকমীল পর্যন্ত
হুযূরকে নিয়ে আমি যতবার
ভেবেছি, ঠিক ততবারই মনে
হয়েছে- তিনি দূর্লভ ব্যক্তিত্ত্ব!

চলনে-বলনে, ইলমে-আমলে,
পোশাক-পরিচ্ছদে, চিন্তা এবং
চেতনায় টপ-টু-বটম পরিপাটি
সাঁজানো-গোছানো এক মহান
ব্যক্তিত্ত্বের নাম হচ্ছে মাওলানা
মঞ্জুরুল ইসলাম সাহেব (হাফিঃ)।
মোটেও বাড়িয়ে বলা নয়; প্রিয়
সাথীবর্গের যারা তাঁকে চিনেন ..
তারাও নিশ্চিত আমার সাথে
একতা পোষণ করবেন, আশা করছি।

দরস-তাদরীস, বয়ানের স্টেজ
এবং ইসলামি রাজনীতিতে বড়
দখল রয়েছে _ প্রিয় হজরতের !
লেখনীতেও তিনি সমানতালে
এগিয়ে চলার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
শব্দের 'বিশুদ্ধ উচ্চারণ' এবং
বাচনিক স্টাইলে সচরাচর তাঁর
জুড়ি মেলা কঠিন/অসম্ভব প্রায়!
সহীহ দিকনির্দেশনা, নির্ভেজাল
স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদানে তিনি
যে এক বিরল ও মহান ব্যক্তিত্ত্ব ..।

আল্লাহ আমাদের উপর
হজরতের ছাঁয়াকে যেনো
সুদীর্ঘ করে দেন, আমীন।